জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

২৯৫/এ, টালি অফিস রোড, রায়ের বাজার, ঢাকা ১২০৯।

জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

শিক্ষার পাশাপাশি মানুষকে মানুষ হিসাবে মূল্যায়ন করার মত যোগ্যতা তৈরি করার মানসে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম শিক্ষার্থীদের জন্য

জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গৌরব গাঁথা ইতিহাস

৫০+ বছরের গৌরবের ইতিহাস

সকলের চেষ্টার কারণে আপনাদের আমাদের স্কুল ৫০ বছরেরও উপরের ইতিহাস নিয়ে আমাদের শিক্ষার এক অনন্য সেবা প্রদান করছে।

একটি সুশৃঙ্খল, সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতির আত্মোন্নয়নের অপরিহার্য অঙ্গ। একটি যথার্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই পারে জাতির মানুষ তৈরির স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে । বাংলাদেশের যে কয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই মহান দায়িত্বকে মাথা পেতে নিয়েছে জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ তার মধ্যে অন্যতম। ১৯৭২ সালে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে রায়ের বাজার টালি অফিস রোডে অত্র এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব লুৎফর রহমান (বাচ্চু) ও কতিপয় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও জনহিতৈষী মহান ব্যক্তিবর্গের যৌথ উদ্যোগে ‘রায়ের বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ধানমন্ডি থানাধীন ২৯৫/এ টালি অফিস রোডে অবস্থিত।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে অত্র এলাকার স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম শিল্পোদ্যোক্তা, বিশিষ্ট সমাজহিতৈষী ও বিদ্যোৎসাহী, জনদরদী, শিক্ষানুরাগী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব জয়নুল হক সিকদার অত্র এলাকার মেয়েদের শিক্ষার কথা চিন্তা করে তাঁর রত্নগর্ভা মায়ের নামে ‘জরিনা সিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’ হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠিত করেন । এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা ছাড়াও তিনি নারী শিক্ষার অগ্রগতির জন্য জেডএইচ সিকদার মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল; মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শরিয়তপুর; সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়, শরিয়তপুর; সামসুন নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ভেদরগঞ্জ, শরিয়তপুর; মিলিনিয়াম স্কুল; ন্যাশনাল ব্যাংক স্কুল এন্ড কলেজ; মনোয়ারা সিকদার গার্লস হাই স্কুল; কোদালপুরে আবদুর রাজ্জাক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়; ম্যান্ডি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন ।
১৯৭৪ সালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঈর্ষনীয় ফলাফল অর্জন করে এবং ১৯৯৪ সালে কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এইচ.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে চমৎকার ফলাফল অর্জন করে। এর পর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের পথে এগিয়ে যায় । বর্তমানে সৃজনশীল ও নতুন কারিকুলাম পদ্ধতিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও উদ্যমী শিক্ষকমণ্ডলীর সর্বাত্মক প্রচেষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম, সচেতন অভিভাবক বৃন্দের সহযোগিতা, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সভাপতি জনাব মনোয়ারা সিকদার এবং গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠানের সুদক্ষ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জনাব রোকসানা সুলতানা এর বহুবিধ সুদূরপ্রসারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা মহানগরীর প্রাণ কেন্দ্রে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে আছে খেলার মাঠ, রয়েছে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, বিজ্ঞানাগার, শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব, একটি সুবিশাল অডিটোরিয়াম, দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো ও মনোরম সবুজ শ্যামল পরিবেশ। ফলশ্রুতিতে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শতভাগ উত্তীর্ণ, জিপিএ-৫ বৃদ্ধি, মেধাবৃত্তিসহ ঈর্ষনীয় ফলাফলের মাধ্যমে স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের কাতারে নাম অর্জনের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ইতোমধ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশ ও দেশের বাহিরের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছে।

Scroll to Top